শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৪ অপরাহ্ন
জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি::
লালমনিরহাটে মাদরাসার ২য় শ্রেনীর এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক ইসমাইল হোসেন (৫৫) কে আটক করেছে আদিতমারী থানা পুলিশ।
বুধবার (১৩ মার্চ) বিকেলে ধর্ষণ চেষ্টা ও যৌন হয়রানীর অভিযোগে ওই মাদরাসার এক সালিশ বৈঠক থেকে তাকে আটক করা হয়। মাদরাসা শিক্ষক ইসমাইল হোসেন কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার নাজিম খা এলাকার মৃত আফার মাহমুদের ছেলে।
শিশুটির পরিবার সুত্রে জানা যায়, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী ইউনিয়নের পূর্বদৈলজোড় এলাকায় আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদরাসার শিক্ষক ইসমাইল হোসেন দীর্ঘদিন থেকে ওই মাদরাসার ২য় শ্রেণির নুরানীয়া এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা, যৌন হয়রানী ও বিভিন্ন ভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। শিশুটিকে অনেক সময় শিক্ষক তার রুমে ডেকে নিয়ে গোপনাঙ্গসহ সাড়া শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত বুলিয়ে লম্পট শিক্ষক নিজের যৌন চাহিদা মেটাতো। গত সোমবার শিশুটি মাদরাসায় যেতে না চাইলে তার নানী জোড় করে মাদরাসায় পাঠানোর চেষ্টা করেন। এরপরেও শিশুটি মাদরাসায় যাওয়ার কথা বললে সে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। পরে তার নানী তাকে জিজ্ঞাসা করলে শিশুটি লম্পট শিক্ষকের যৌন হয়রানীর ব্যাপারে সব কথা খুলে বলে। ওইদিনই শিশুটির নানী এলাকাবাসীকে বিষয়টি অবগত করেন এবং মাদরাসার অধ্যক্ষ ইউছুব আলী’র নিকট বিচার দাবী করেন।
মাদরাসার অধ্যক্ষ ইউছুব আলী তাৎক্ষনিক ভাবে লম্পট শিক্ষক ইসমাইল হোসেনকে ডেকে শাসন করে ও মাদরাসা থেকে সরিয়ে দেন। বিষয়টি এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হলে মঙ্গলবার (১২ মার্চ) বিকালে এলাকাবাসী অধ্যক্ষ ইউছুব আলীকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং লম্পট শিক্ষক ইসমাইল হোসেনকে হাজির করে সুষ্ঠ বিচারের দাবী জানান। ওইদিন রাতেই অধ্যক্ষ লম্পট শিক্ষককে হাজির করে এলাকাবাসীর নিকট সোর্পদ করেন।
বুধবার (১৩ মার্চ) দুপুরে সাপ্টিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মমতাজ আলীর নেতৃত্বে লম্পট শিক্ষক ইসমাইল হোসেনের উপস্থিতিতে মাদরাসায় একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করে। সালিশ বৈঠকে দীর্ঘ সময় আলোচনার পরেও সেখানে মাতব্বররা লম্পট শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হন। পরে তারা থানা পুলশের সাহায্য নেন এবং আদিতমারী থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে বিকালে আদিতমারী থানার এসআই আনিছুজ্জামান আনিছ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত মাদরাসার শিক্ষক ইসমাইল হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।
এ ব্যাপারে আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, ওই ঘটনায় অভিযুক্ত মাদারাসার শিক্ষককে আটক করে থানা নিয়ে আসা হয়েছে। এখন পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ পাওয়া যায় নাই। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।